দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সম্প্রতি সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে পুলিশ বা ডিবির (ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া কল ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এই ধরনের প্রতারণা থেকে সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং স্পষ্ট জানিয়েছে যে, পুলিশ কখনোই হোয়াটসঅ্যাপ বা ডিজিটাল মাধ্যমে কাউকে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করে না।
প্রতারকরা সাধারণত পুলিশ কর্মকর্তাদের ছবি ও নাম ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল তৈরি করে। এরপর ‘আপনার বিরুদ্ধে মামলা আছে’ বা ‘আপনার স্বজন বিপদে পড়েছেন’ এমন ভীতি প্রদর্শন করে বিকাশ, রকেট বা নগদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে প্রতারণার নতুন কৌশল হিসেবে এখন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করছে সাইবার অপরাধীরা। সম্প্রতি অনেকের কাছেই বাংলাদেশ পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, র্যাব বা অন্য কোনো গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কল বা মেসেজ আসছে। প্রোফাইল ছবিতে দেখা যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরা কোনো ব্যক্তির ছবি, যা দেখে অনেকেই প্রথমে বিষয়টিকে সত্য বলে বিশ্বাস করছেন।
প্রতারকরা সাধারণত ভয়ভীতি দেখিয়ে কথোপকথন শুরু করে। তারা দাবি করে, আপনার নামে মামলা হয়েছে, আপনার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অন্য কাউকে হুমকি দেওয়া হয়েছে কিংবা কোনো অপরাধের সঙ্গে আপনার নম্বর জড়িত। এরপর তারা জানায়, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গ্রেপ্তার বা আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রে প্রতারকরা বলে, নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিলে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হবে। আবার কেউ কেউ একটি লিংক পাঠিয়ে সেটিতে ক্লিক করতে বলে। লিংকে প্রবেশ করলে ফোনে ক্ষতিকর অ্যাপ ইনস্টল হতে পারে বা ফোনের বিভিন্ন তথ্য ও নিয়ন্ত্রণ প্রতারকদের হাতে চলে যেতে পারে। এর মাধ্যমে ব্যাংকিং তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট কিংবা ব্যক্তিগত ছবিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
যেভাবে বুঝবেন এটি প্রতারণা : প্রথমেই মনে রাখতে হবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণত হোয়াটসঅ্যাপে কল করে কাউকে মামলা বা গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করে না। অপরিচিত আন্তর্জাতিক নম্বর, অস্বাভাবিক ভাষা, তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দেওয়া কিংবা গোপনে টাকা পাঠানোর নির্দেশ এসবই প্রতারণার বড় লক্ষণ।
এছাড়া প্রোফাইল ছবিতে পুলিশের পোশাক বা সরকারি লোগো থাকলেই সেটি সত্যিকারের পরিচয় নয়। বর্তমানে যে কেউ সহজেই এমন ছবি ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয় তৈরি করতে পারে।
এমন কল বা মেসেজ পেলে যা করবেন :
সন্দেহ হলে যেভাবে নিশ্চিত হবেন : যদি কেউ নিজেকে পুলিশ বা কোনো সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেয়, তাহলে তার কথার ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট থানায় বা সরকারি দপ্তরের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করুন। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো তথ্য বা অর্থ লেনদেন করবেন না।
সাইবার প্রতারকরা মানুষের ভয়, অজ্ঞতা ও তাড়াহুড়ার সুযোগ নেয়। তাই অচেনা নম্বর থেকে আসা হোয়াটসঅ্যাপ কল, ভিডিও কল বা সন্দেহজনক মেসেজের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকুন। মনে রাখবেন, কয়েক মিনিট যাচাই করে নেওয়া আপনাকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে। বিশেষ করে পরিবারের বয়স্ক সদস্য ও প্রযুক্তিতে কম অভিজ্ঞ ব্যক্তিদেরও এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি, কারণ তারাই অনেক সময় এসব ফাঁদে সবচেয়ে বেশি পড়েন।
কে